সোনারগাঁওয়ে জেলা ছাত্রলীগ-থানা ছাত্রলীগের সংঘর্ষ

দৈনিক মুক্ত বাংলাদেশ
Tuesday, September 21, 2021 | September 21, 2021 WIB Last Updated 2021-09-21T11:25:09Z


সোনারগাঁও প্রতিনিধিঃ

সোনারগাঁওয়ের কথিত যুবলীগ নেতা ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যাপক পরিচিত এস,কে সজিব ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের হাতে ব্যবসায়ী-শ্রমিকরা লাঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকালে উপজেলার ত্রিবর্দী (টিপরদি) এলাকায় মেঘনা ইকোনামিক জোন এর পাশে পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্যান্টাকি নীট কম্পোজিট লিমিটেড এর ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যান্টাকির একাধিক সূত্র জানায়, সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সোনারগাঁওয়ের মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবীদের কাছে ইয়াবা আর ফেন্সিডিলের প্রধান যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত মুখ  এস,কে সজিব বিকালে একটি ট্রাকে করে দেশীয় অস্ত্রসহ ২৫/৩০ জনের একটি দল ক্যান্টাকি নীট কম্পোজিট লিমিটেড এর ভেতর প্রবেশ করে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মামুনকে বেধরক পিটিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। তার এমন সন্ত্রাসী কাজে কয়েকজন শ্রমিক মামুনকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে সজিব গ্রুপের সজিব, শান্ত, হৃদয়, অনিক, শাওন, পায়েল, সুমন, মামুন, লিয়ন, রানা, ফয়সাল, আল-আমিন, রাসেল, জহিরুল, রহিম ও শাকিলসহ তাদের সাথে থাকা অন্যান্য সন্ত্রাসীরা। একপর্যায় অন্য শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পরলে, সন্ত্রাসীরা ক্যান্টাকি নীট কম্পোজিট লিমিটেড থেকে বের হয়ে ওই ইকোনামিক জোনের পাশে থাকা নতুন সড়ক দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নেতাসহ কমপক্ষে ৮ জনকে কুপিয়েছে সোনারগাঁও পৌরসভা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও পৌর বিএনপি’র সদস্য সচিব স্থানীয় পৌর কমিশনার মোতালেব মিয়ার ভাগিনা  এবং স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী রনি ও তার সহযোগিরা। সোমবার বিকালে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের পুরান ত্রিবর্দী (টিপরদি) এলাকায় স্থানীয় একটি খাবার হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। মুলত কি কারণে এ হামলা তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে না পারলেও স্থানীয়দের ধারণা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব টিকিয়ে   আধিপত্য দেখাতে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। হামলায় আহতদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরমান, জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মামুন, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনয়ছাড়াও আরও ৫/৬ জন। তবে, প্রাথমিকভাবে উল্লেখিতদের নামই জানাতে পেরেছে স্থানীয় একটি সূত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  স্থানীয় একটি সুত্র জানায়, সোমবার  বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরমান, জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মামুন, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনয়সহ ৮/১০ জন উপজেলার পুরান ত্রিবর্দী এলাকায় একটি হোটেলে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় দুইটি নাফ পরিবহনে করে সোনারগাঁও পৌরসভা বঙ্গবন্ধু সাস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও পৌর বিএনপি’র সদস্য সচিব, স্থানীয় পৌর কমিশনার মোতালেব মিয়ার ভাগিনা রনি ও তার সহযোগি নাঈম, সাজু, সুজন,জীবন,হাসান, সোহেল এবং হাসমতসহ কমপক্ষে ২৫/ ৩০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই হোটেলে প্রবেশ করে এবং ছাত্রলীগের ওই সব নেতাসহ সেখানে থাকা কমপক্ষে ১০ জন ব্যক্তির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় কমপক্ষে ৭ /৮ জন গুরুতর জখম হয়। আহতদেকে  আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে মদনপুরের আল-বারাকা হাসপাতালে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, ঢামেক হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে ডাকা পঙ্গুহাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আহতদের মধ্যে কমপক্ষে ৪জনের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন বলে সূত্র দাবি করে। 

এ ব্যাপারে সোনারগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমিও লোক মারফত শুনেছি। মুলত ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের ছেলেপেলের সাথে স্থানীয় ছাত্রলীগের ফেলে-পেলেদের মারামারি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। এখনো (রাত ৯টার কিছু পর) কোন পক্ষ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Comments
comments that appear entirely the responsibility of commentators as regulated by the ITE Law
  • সোনারগাঁওয়ে জেলা ছাত্রলীগ-থানা ছাত্রলীগের সংঘর্ষ

জনপ্রিয় সংবাদ

Advertisement